ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি:
ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৬: ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজের পরিচয় গোপন করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা জাহিদ হাসান জয়–এর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জয় দীর্ঘদিন ধরে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন নারীর আস্থা অর্জন করতেন। কখনো নিজেকে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী, আবার কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার দাবিও করতেন।
তদন্তে জানা গেছে, জয় ২০২০ সালে সরকারি বাংলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হননি। নানির চাকরির সুবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক কলোনিতে থাকলেও জীবিকার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের ক্যানটিনে কাজ করতেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জয় পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের পরিচয় বদলাতেন। কখনো দাবি করতেন তাঁদের পারিবারিক বাড়ি লন্ডনে, আবার কখনো বলতেন তাঁর বাবা-মা মারা গেছেন। এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি বিশেষ করে উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন।
সম্প্রতি সাত কলেজের স্নাতক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, তিনি অর্থনীতি বিভাগ থেকে ৩.৪৩ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তাঁর নামে কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। পরে তিনি যে মার্কশিট দেখান, যাচাই করে দেখা যায় সেটি অন্য একজন শিক্ষার্থীর।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিভাগীয় কার্যক্রমে নিয়মিত উপস্থিত থেকে তিনি নিজেকে কলেজটির শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতেন। ফলে অনেকেই তাঁকে প্রকৃত শিক্ষার্থী বলে বিশ্বাস করেছিলেন।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগ জানায়, জাহিদ হাসান জয় নামে বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী নেই। বিভাগের শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রাজিয়া মাহবুবা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জয় একই সময়ে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং কয়েকজনকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রাখা এক নারী অভিযোগ করেন, জয় তাঁর ব্যক্তিগত অনেক তথ্য জানেন, তাই তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদ হাসান জয়। তাঁর দাবি, তিনি কারও সঙ্গে প্রতারণা করেননি এবং কখনো নিজেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলেননি। তবে শিক্ষার্থী না হয়েও কলেজের বিভিন্ন খেলাধুলা ও কার্যক্রমে অংশ নেওয়াকে তিনি নিজের ভুল বলে স্বীকার করেন।
























