অনলাইন ডেস্ক :
প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির বিরোধিতা করে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন পাঞ্জাবের শত শত কৃষক। তবে হরিয়ানায় প্রবেশের প্রধান পথ শম্ভু সীমান্তে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ। এতে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য কিষান মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে রওনা হন। কিন্তু সীমান্তে ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের দিল্লির দিকে যেতে বাধা দেওয়া হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও সমাবেশে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তারা শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানা—উভয় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন।
বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং দাবি করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের সীমানার ভেতরেই ব্যারিকেড স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে পাঞ্জাব সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে, হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্রসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকদের একটি অংশ দিল্লির দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের একাধিক কৃষক সংগঠন অংশ নিয়েছে। তাদের মূল দাবি, প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত সব নথি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
কিষান মজদুর সংগ্রাম কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, সম্ভাব্য এই বাণিজ্যচুক্তি শুধু কৃষি নয়, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তিসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কৃষক নেতাদের আশঙ্কা, মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার আরও উন্মুক্ত হলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে সরকার যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখাচ্ছে না।
সংগঠনগুলোর দাবি, ভারতের দুগ্ধ খাতের সঙ্গে প্রায় আট কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা জড়িত। তাই এই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। কৃষক নেতারা সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।























