রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেললাইন অবরোধ, সারাদেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ

15 বার পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বাংলাদেশ রেলওয়ের এক ট্রেন টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসসংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ফোরকান উদ্দীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সোমবার রাতে পদ্মা এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফিরছিলেন। যাত্রাপথে কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই অর্থ নেওয়া হচ্ছে দেখে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এরপর এক টিটিই তাঁর ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ফোরকান। তাঁর দাবি, হামলার সময় গলা চেপে ধরা, পায়ে আঘাত করা এবং তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোর থেকেই চারুকলা এলাকার রেললাইনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। ফলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী স্টেশনে আটকে রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

 

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, অবরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও ট্রেন ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্ত টিটিইকে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা।

 

আন্দোলনকারীদের একজন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, রেলওয়েতে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হয়রানির ঘটনা বারবার ঘটছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে আলোচনা কোথায় হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব হবে।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted