সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা জোরদার, বেরোবিতে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ

বেরোবি প্রতিনিধি

 

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অতিথি, দর্শনার্থী এবং সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ সব ধরনের যানবাহনও থাকবে।

 

এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিসোঁটা ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেন, আর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। সেখানে প্রদর্শিত কিছু ছবি ও ব্যানার অপসারণের দাবি জানায় ছাত্রদল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা না করে ছাত্রদল তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিনের দাবি, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানাতে গেলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, সংঘর্ষে বহিরাগতদেরও ব্যবহার করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, কোনোভাবেই যেন আর কোনো শিক্ষার্থী আহত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সংযত থাকতে হবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতেই কেবল বিভিন্ন কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়।প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, পত্রিকার ভাষায়, বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের স্টাইলেও সাজিয়ে দিতে পারি।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted