নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন খাতের কারখানায় গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু তৈরি পোশাক কারখানা ৫ আগস্টের সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে মিতালি ফ্যাশনের ডাইং সেকশন টানা আট দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ৩০টি সেলাই লাইনের মধ্যে ১৮টি অলস পড়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ জানান, গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ক্রেতাদের মূল্যছাড় দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প মালিকদের তথ্যমতে, কাচ, ইস্পাত, বস্ত্র, তৈরি পোশাক, সিরামিক, বিস্কুট-কেক এবং ভোগ্যপণ্য শিল্পে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে যাচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় এবং লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে কোহিনূর কেমিক্যাল, প্রাণ-আরএফএল, লিটল স্টার স্পিনিংসহ বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও। অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। ডিবিএল গ্রুপ গ্যাস সংকটের কারণে ডাইং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।
শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে পোশাক কারখানাগুলো বর্তমানে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। অন্যদিকে কাচ, ইস্পাত ও সিরামিক শিল্পের উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমে যাবে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে দৈনিক ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমেছে, যেখানে দেশের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনালটি আংশিক চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে এলএনজির ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতকে ধীরে ধীরে গ্যাসনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।


















