নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে পরিবহন খাতে ভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে যাত্রীভাড়াও।
রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, মিরপুর, উত্তরা, খিলক্ষেত ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, রাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেক চালককে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। কোথাও আবার স্বল্পচাপের কারণে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
সিএনজি অটোরিকশাচালক নুরুল ইসলাম জানান, কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে তিনি এক স্টেশনকর্মীকে ১০০ টাকা দিয়ে লাইনের সামনে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে এত কষ্টের পরও তিনি মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন।
একই পরিস্থিতি চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলাতেও দেখা গেছে। স্বল্পচাপের কারণে অনেক স্টেশন স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, ফলে চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রীভাড়াতেও। রাজধানীতে অনেক সিএনজি চালক আগের তুলনায় বেশি ভাড়া দাবি করছেন। চালকদের দাবি, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানো এবং পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, এটি শুধু ঢাকার সমস্যা নয়, সারা দেশেই গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। অনেক স্টেশন মাত্র ২ থেকে ৩ পিএসআই চাপ পাচ্ছে, যা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়।
গত ১৮ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট কমেছে।
তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ (জনমান্দ) মান্নান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পৌঁছেছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই টার্মিনালটি আবার চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।















