গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি নেই, দিন-রাত চলছে লোডশেডিং

পাঠক নিউজ প্রতিবেদক

 

মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও দেশের বিদ্যুৎ সংকট কাটেনি। বরং দিনের পাশাপাশি এখন গভীর রাতেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরকারি ছুটির দিন শনিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল প্রায় দুই হাজার থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট।

 

বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৮৯৬ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং করতে হয়েছে ২ হাজার ৫৩৪ মেগাওয়াট। এর আগে বিকেল ৩টায় ১৫ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াট।

সকালে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিংও তুলনামূলক কম থাকে। তবে শনিবার সকালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। সকাল ৯টায় ১৩ হাজার ৭৩৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।

 

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে রাতের লোডশেডিং। শুক্রবার রাত ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে লোডশেডিং করা হয় ২ হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট।

 

অর্থাৎ, শুধু দিনের ব্যস্ত সময়ে নয়, মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

 

এর আগের বৃহস্পতিবার অবশ্য পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। ওই দিন লোডশেডিং ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎ সংকট আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়াই বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।

 

গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এর সঙ্গে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সেখান থেকেও বর্তমানে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

 

মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বয়লার চালু করা সম্ভব হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গোর সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

মহেশখালীর দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। গত ২১ জুলাই এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সরবরাহ কমে প্রায় ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

 

বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা বেড়ে প্রায় ২৩৬ দশমিক ৭ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হওয়ায় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।

 

ফলে এলএনজি সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়লেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না। আর এর প্রভাবেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted