মেসি-রোনালদোসহ তারকাদের প্রাণনাশের হুমকি, ফাঁস এফবিআইয়ের গোপন নথি

খেলা ডেস্ক

 

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিদের নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের (আইপিসিসি) গোপন নিরাপত্তা প্রতিবেদনের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে।

স্পেনের সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকা-র অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে ও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার, কোচ ও ম্যাচ কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মুখে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করেন এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে আরও দুজন রয়েছেন এবং তাঁদের কাছে হাতে তৈরি বোমা ও এআর-১৫ ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল রয়েছে।

 

ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তারা স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন এবং পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তাঁদের কথিত হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন মেসি।

 

এর আগে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচকে ঘিরেও মেসির নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামে ঢুকে নিজের শরীরে বিস্ফোরক বেঁধে মেসিকে হত্যার হুমকি দেন।

 

শুধু তাই নয়, ম্যাচ চলাকালে পুলিশ সদর দপ্তরে ফোন করে স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা থাকার দাবি করা হয়। পরে বিস্ফোরক শনাক্তকারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।

 

পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও বিশ্বকাপ চলাকালে একাধিকবার নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

 

এক ফিফা কর্মকর্তা পুলিশকে জানান, এক ব্যক্তি রোনালদোর অবস্থান ও থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পরে হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

টরন্টোতেও এক ভক্ত রোনালদোর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে আটকে দেন। পরে ওই ব্যক্তি জানান, রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তোলাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

 

মায়ামিতেও রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ চলাকালে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন।

 

শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণেই নয়, মাঠের পারফরম্যান্স ও বিভিন্ন ঘটনার জেরেও কয়েকজন ফুটবলারকে ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।

 

প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে বাদানুবাদের পর ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। পরে দেশটিতে এমবাপ্পের প্রতিকৃতি পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে এবং সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

নরওয়ের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

 

পেনাল্টি মিসের পর কলম্বিয়ার ফুটবলার জামিনটন ক্যাম্পাজও নিরাপত্তা নিয়ে চাপে পড়েন। পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি তিনি।

 

এদিকে স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার ঘটনায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও প্রাণনাশের হুমকি পান।

 

বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার দলও গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে। প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ার পর কোচ হং মিয়ং-বোসহ পুরো দলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে বিমানবন্দর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া দলকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

তবে হুমকির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে।

 

আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচ পরিচালনার পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। এসব বার্তার বড় অংশই মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ওই ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফরাসি কর্মকর্তা উইলি দেলাজোদও হত্যার হুমকি পান।

 

পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে লেতেক্সিয়ে ও দেলাজোদের বাড়ি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।

 

ফাঁস হওয়া এসব নথি থেকে বিশ্বকাপের মাঠের বাইরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ঘিরে তারকাদের নিরাপত্তায় কতটা বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, এসব তথ্য তারই একটি চিত্র তুলে ধরছে।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted