ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে সমকামিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধিমালায় কী ধরনের ব্যবস্থা বা শাস্তির বিধান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আদেশ ও আবাসিক হলের প্রচলিত শৃঙ্খলাবিধিতে সমকামিতাকে আলাদা কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো শাস্তির বিধানও নেই।
তবে অসদাচরণ, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিনষ্ট বা হলের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সতর্কবার্তা, হল থেকে বহিষ্কার, সাময়িক কিংবা স্থায়ী বহিষ্কারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি মাস্টারদা সূর্য সেন হলে এক আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিরাগতকে হলে এনে সমকামিতার উদ্দেশ্যে অবস্থানের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল এবং তাকে হল থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলেও দুই অতিথির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি হল সংসদের এজিএস ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক আসন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে হল প্রশাসন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, সমকামিতার বিষয়ে বর্তমান বিধিমালায় আলাদা কোনো শাস্তির বিধান নেই। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে।


















