অনলাইন ডেস্ক
তীব্র গরমের মধ্যেই দেশজুড়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ সংকট। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, আবার কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৫ ঘণ্টা।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৭৩ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮২১ মেগাওয়াট। দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘাটতি আরও বেড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছায়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৮ থেকে ৭০ কোটি ঘনফুটে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটাপন্ন। সেখানে চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনে গড়ে মাত্র ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়ও দিনে ২০ থেকে ২৫ বার লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া মুন্সীগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুয়াকাটা, নাটোর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা, চালকল, ওয়ার্কশপ এবং অনলাইনভিত্তিক সেবাখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে ইজিবাইক ও অটোরিকশার চালকেরা পর্যাপ্ত চার্জ দিতে না পারায় আয় কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। কোথাও জেনারেটর বিকল, কোথাও বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। এইচএসসি পরীক্ষার সময় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিতরণ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।















