তারুণ্যের স্বপ্ন ও বাস্তবতা : আজকের যুব দিবসের বার্তা

গালিবা আনতারা সোয়ারা

 

১২ ই আগস্ট, আন্তর্জাতিক যুব দিবস। তরুণদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অধিকারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই আন্তর্জাতিক যুব দিবসের ধারণার সূচনা।১৯৯১ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের World Youth Forum-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল—বিশ্বের তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং যুব উন্নয়নে রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মনোযোগ বাড়ানো।১৯৯৮ সালে লিসবনে সেই প্রস্তাবের অগ্রগতি, ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং ২০০০ সালে প্রথম দিবস পালন—এই ধারাবাহিক পথ পেরিয়েই আন্তর্জাতিক যুব দিবস আজকের অবস্থানে এসেছে।

 

এই দিনটি শুধু শুভেচ্ছা জানানো কিংবা আলোচনা সভা, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট এসব করে থেমে যাওয়ার সময় নয় বরং তরুণদের নিয়ে ভাববার সময়। আমরা জানি, তারুণ্য মানেই সম্ভাবনা, সাহস ও পরিবর্তনের শক্তি। একটি দেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে সেই দেশের তরুণরা কীভাবে নিজেদের গড়ে তুলছে এবং সমাজ তাদের জন্য কতটা সুযোগ তৈরি করছে তার ওপর। তরুণরা শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়; তারা বর্তমানেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে গবেষণাগার, প্রযুক্তির উদ্ভাবন থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন, স্বেচ্ছাসেবা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার উদ্যোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের উপস্থিতি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি রাখে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশে তরুণদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ করার পর অনেকের সামনে অপেক্ষা করছে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা। শুধু চাকরির অভাব নয়, শিক্ষার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার সামঞ্জস্য না থাকাও বড় সমস্যা।

 

কীভাবে উন্নত করা যেতে পারে?

প্রথমত, শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মবাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শুধু পরীক্ষাভিত্তিক জ্ঞান নয়, দরকার গবেষণা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি, সমস্যা সমাধান ও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়াতে হবে।

 

দ্বিতীয়ত, দক্ষতা উন্নয়নকে আর ও বাস্তবমুখী করতে হবে। যে প্রশিক্ষণ এর পরে কাজ নেই সেগুলো বাতিল করে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

 

তৃতীয়, যেসব তরুণ উদ্যোক্তা আছে তাদের জন্য সহজ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শুধু ঋণ দিলেই হবে না পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, বাজারজাতকরণ, হিসাবরক্ষণ, সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরামর্শের সুযোগ ও দিতে হবে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত একই ব্যবস্থা করা।

 

চতুর্থত, তরুণীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে হবে। যেসব তরুণী শিক্ষিত হয়েও কর্মসংস্থানের বাইরে তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, যাতায়াতের সুবিধা, উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত জরুরি।

 

পঞ্চমত, ঢাকাকেন্দ্রিক সুবিধা কমাতে হবে। দেশের মেধা শুধু রাজধানীতে নেই। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও নজর দেওয়া। তাহলে উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে, তরুণদের ঢাকামুখী হওয়ার চাপ ও কমবে।

 

ষষ্ঠত, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তরুণদের নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করার সময় শুধু তাদের সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না, সিদ্ধান্ত তৈরির প্রক্রিয়ায় ও তাদের মতামত থাকতে হবেয়। ২০১৭ সালে জাতীয় যুব নীতিমালা ও কর্মসূচি রয়েছে এখন সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

সবশেষে, তরুণদের ও নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু সরকারি চাকরিকে সাফল্যের  একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে না দেখে নতুন দক্ষতা অর্জন, গবেষণা করা, উদ্যোক্তা হওয়া, সামাজিক কাজে যুক্ত হওয়া এবং প্রযুক্তিকে সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

 

তারুণ্য কোনো বোঝা নয়, সঠিক বিনিয়োগ করতে পারলেই সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।তারুণ্য হয়ে ওঠে একটা দেশের শক্তিশালী চালিকাশক্তি।

 

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted