মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল–আসাদের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

 

একই মামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বাশার আল–আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য এবং নাজিবকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন।

 

মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

 

দারা প্রদেশের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলল আদালত

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে বাশার আল–আসাদ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

 

সিরিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর দারা প্রদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই সময় বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যা পরে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

 

ক্ষমতা হারিয়ে রাশিয়ায় বাশার

দীর্ঘদিন সিরিয়ার ক্ষমতায় থাকা বাশার আল–আসাদ ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন। ইসলামপন্থী নেতা আহমেদ আল–শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী দামেস্কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি।

 

বর্তমানে বাশার আল–আসাদ রাশিয়াতেই অবস্থান করছেন।

 

ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।

 

আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ

 

বাশার আল–আসাদের পাশাপাশি আতেফ নাজিবকেও ২০১১ সালের দারা প্রদেশের ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী করা হয়েছে। আদালত তাঁকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

 

দারা অঞ্চলে তৎকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নাজিবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে সহিংসতা ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল।

 

আদালতের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তির পথে নতুন অধ্যায় তৈরি হলো।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted