চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামে দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ২৯৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেখানে শুধু জুলাই মাসের প্রথম ২১ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন। এতে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০৩ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১৮৪ জনই নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। আর নগর এলাকা থেকে ভর্তি হয়েছেন ১২১ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এডিস মশার বিস্তার বেড়েছে, যার প্রভাব এখন হাসপাতালগুলোতে স্পষ্ট।
গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯২ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সবচেয়ে বেশি ৫৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে কর্ণফুলী উপজেলা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১।
চিকিৎসকদের মতে, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগীর উচ্চমাত্রার জ্বর না থাকলেও বমি, তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা এবং লিভার-কিডনির জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের ঝুঁকিও বাড়ছে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. এ এস এম লুৎফুল কবির বলেন, জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সম্প্রতি পরিচালিত জরিপে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ হালিশহর, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লা—এই আটটি ওয়ার্ডকে এডিস মশার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (রেড জোন) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। লার্ভিসাইড ছিটানো, ফগিং কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।
Visit our Another website for blog- Pathok BD
























