নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ বন্ধু দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে শুভেচ্ছা, পুরোনো ছবির কোলাজ আর স্মৃতিচারণে ভরে উঠেছে অনলাইন দুনিয়া। কিন্তু প্রযুক্তির এই অতি-সংযুক্ত সময়ে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—বন্ধুত্ব কি আগের মতোই আন্তরিক আছে, নাকি স্ক্রিনের আড়ালে তার সংজ্ঞাই বদলে গেছে?
বন্ধু দিবসের সূচনা ১৯৩০ সালে একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে হলেও পরে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। জাতিসংঘ ২০১১ সালে ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম রোববার দিনটি উদযাপনের প্রচলন রয়েছে।
একসময় বন্ধুত্ব মানেই ছিল মাঠের আড্ডা, বিকেলের খেলাধুলা, ল্যান্ডফোনে দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা হাতে বানানো ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড। ভুল বোঝাবুঝি হলে সম্পর্ক ঠিক করতে মুখোমুখি কথাই ছিল একমাত্র উপায়। সেই সময়ে ধৈর্য, সময় আর আন্তরিকতাই বন্ধুত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করত।
বর্তমানে প্রযুক্তির বিস্তারে যোগাযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত বা হাজারো বন্ধু থাকা এখন স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু বাস্তব জীবনে কঠিন সময়ে পাশে থাকার মতো একজন সত্যিকারের বন্ধুর অভাব অনেকের জীবনেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভার্চুয়াল যোগাযোগ মানুষের একাকিত্বও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন একাকী থাকা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কর্মব্যস্ত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং প্রযুক্তিনির্ভর অভ্যাসের কারণে এখন অনেকের কাছেই বন্ধুত্ব সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে একটি শুভেচ্ছাবার্তা, লাইক বা ইমোজিতে। অথচ মন খুলে কথা বলা, সময় দেওয়া কিংবা বিপদের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর বিকল্প কোনো ডিজিটাল প্রতিক্রিয়া হতে পারে না।
তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকও কম নয়। ভৌগোলিক দূরত্ব এখন আর সম্পর্কের বড় বাধা নয়। দেশের বাইরে থাকা বন্ধুর সঙ্গেও ভিডিও কল বা অনলাইন মাধ্যমে সহজেই যোগাযোগ রাখা যায়। প্রয়োজনে দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
দিনের শেষে বন্ধুত্বের প্রকৃত মূল্য রয়ে যায় বিশ্বাস, আন্তরিকতা এবং নিঃস্বার্থ পাশে থাকার মধ্যেই। বহুদিন যোগাযোগ না থাকা কোনো বন্ধুকে হঠাৎ ফোন করে শুধু একটি প্রশ্ন“বন্ধু, কেমন আছিস?”—হয়তো সেই সম্পর্ককে আবার নতুন করে জীবন্ত করে তুলতে পারে। প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, সত্যিকারের বন্ধুত্বের শক্তি এখনো মানুষের হৃদয়ের কাছেই রয়ে গেছে।


















