রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: ফিরবে কোথায়, কার কাছে?

৫৬ বার পঠিত

গালিবা আনতারা সোয়ারা 

 

সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তারা তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই শেষ করেছে। মিয়ানমারের এমন ঘোষণা সবার মধ্যে একটা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। তবে কি এক দশক ধরে আটকে থাকা এই সংকটের পথ খুলতে যাচ্ছে? কিন্তু এখানে একটি বড় সমস্যা রয়ে গেছে। মিয়ানমার সরকার সেই ভূখণ্ডে এই মানুষদের ফেরত পাঠাতে চায়, সে ভূখণ্ডে এটা বড় অংশ এখন আর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাহলে রোহিঙ্গারা ফিরবে কোথায়? কার কাছে ফিরবে? আর তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বা কে দেবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আসলে বুঝিয়ে দেয়, কেন নয় বছর ধরে প্রত্যাবাসনের ঘোষণা আসছে, কিন্তু রোহিঙ্গারা ফিরতে   পারছে না তাদের আদি নিবাসে। প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা নয় বছর ধরে আটকে আছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। অন্যদিকে মিয়ানমারের ভিতর যুদ্ধ শুধু থামেইনি, বরং ক্ষমতার  কাঠামোই বদলে গেছে। ২০১৭ সালের মিয়ানমার আর ২০২৬ সালের মিয়ানমার এক নয়। রাখাইন বদলে গেছে, বদলে গেছে সেখানকার রাজনৈতিক সমীকরণ। এখন তাহলে সমস্যাটি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? এই সংখ্যাটি কেন এখনও কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় না?

 

২০১৭ সালে ঘটেছিল আগস্টে একটি ছোট রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা। এরপর মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে তথাকথিত নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই অভিযানে শুরু হয় ব্যাপক সামরিক দমন আর নিপীড়ন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় গ্রামের পর গ্রাম, নির্বিচারে মানুষকে খুন করা হয়, নারী ও শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের আশ্রয় নেয়। আগের কয়েক দফা সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে এসে ঠাঁই নেওয়া আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তদন্তকারীরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানে গণহত্যার উদ্দেশ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগ তোলেন। এই অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা আইসিজি পর্যন্ত মামলা গড়ায়।

 

কিন্তু এখানে ধারণা ছিল, সংকটের সমাধান শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসনই হবে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থাকবে সাময়িকভাবে, মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং একদিন সংকটের চূড়ান্ত অবসান ঘটবে। কিন্তু সেই একদিন এখন প্রায় এক দশক। মিয়ানমারে যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত, এমন ঘোষণা কিন্তু এবারে প্রথম নয়। ২০১৮ সালে প্রত্যাবাসনের জন্য চূড়ান্ত একটি সমঝোতা সই হয়েছিল বাংলাদেশ আর মিয়ানমারের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। একাধিকবার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে একটি পাইলট প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটিও ভেস্তে যায়। রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে ফেরানোর জন্য যাচাইয়ের কাজ সে সময় করা হয়েছিল। কিন্তু আবার নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই উদ্যোগ একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। তারপর ২০২৫ সালে মিয়ানমার প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। আর এখন ২০২৬ সালে এসে সেই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখেরও বেশি।

 

শুনতে এই তিন লাখ সংখ্যাটিকে বড় অগ্রগতি মনে হতে পারে। একটি প্রশ্ন থেকে গেছে, কবে তারা ফিরবে? তাদের নাগরিকত্ব কি হবে? তাদের জমি, বাড়িঘর, অধিকার কী হবে? যে এলাকায় তারা ফিরবে, সেখানে আসল ক্ষমতায় কে থাকবে? এখানে কাগজ-কলমে কূটনীতি আর মাঠ পর্যায়ে বাস্তবতার মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়ে যায়।

 

প্রত্যাবাসন কেন আটকে আছে? ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল করার পর দেশে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এই গৃহযুদ্ধে অস্থিরতার সুযোগটি নিয়েছিল আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মি গঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালে। জাতিগত রাখাইন সশস্ত্র সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল রাখাইন জনগোষ্ঠীর জন্য বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন। গত কয়েক বছরের শেষ দিক থেকে তারা রাখাইন রাজ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। একটার পর একটা সামরিক ঘাঁটি তারা দখল করে নেয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আর জনপদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের নেয় এবং ধীরে ধীরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে রাখাইনের বড় অংশ থেকে তারা হটিয়ে দেয়।

 

আজ রাখাইন রাজ্যের বিস্তৃত এলাকা আর মিয়ানমার সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণেই নেই, বলা চলে। এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। কারণ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর যে পরিকল্পনা এতদিন করা হয়েছিল, তার মূল অংশীদার ছিল মিয়ানমার সরকার। কিন্তু এখন সেই ভূখণ্ড রোহিঙ্গাদের বড় অংশকে ফিরিয়ে যেতে হবে, সেখানকার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলেই চলে। মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে কে?

 

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে মানে রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি ভালো হয়েছে, এমন ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নতুন করে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এলাকার আর্মির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বেশ জটিল। রাখাইনের জাতিগত রাজনীতিতে রোহিঙ্গা পরিচয়কে ঘিরে গভীর বিরোধ আছে। আর সাম্প্রতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা আবার দুই পক্ষের সংঘাতের মাঝখানে এসে পড়েছে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন, বাস্তুচ্যুত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, গণহত্যারও। রাখাইনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোয় রোহিঙ্গাদের জায়গাটা কোথায় হবে? প্রত্যাবাসন সম্ভব, কিন্তু বাস্তবে নিরাপদ আর মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ এখনো ফেরেনি। কারণ প্রত্যাবাসন শুরু সীমান্ত পার করে মানুষকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানোর বিষয় নয়। প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজন নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, জমি ও বসতবাড়ির অধিকার, চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষা, সুযোগ-সুবিধা এবং রাজনৈতিক স্বীকৃতি। কিন্তু এখন প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য সমাধান এখানেই নেই। তাই প্রশ্ন, রোহিঙ্গা কবে ফিরবে? কোথায় ফিরবে? কার অধীনে ফিরবে?

 

একদিকে কমছে আন্তর্জাতিকতা। ডব্লিউএফপি বছরের পর বছর অর্থ সংকটে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমাতে বাধ্য হয়েছে। একসময় রেশন ছিল বেশি, কমেছে। এদিকে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর একদিকে দেশে ফেরার পথটা রুদ্ধ, অন্যদিকে শিবিরে টিকে থাকার সহায়তা কমে আসছে। বড় সমস্যা বিশ্বের মনোযোগ স্থায়ী নয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংঘাত, সুদানে সংঘাত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ—সারা বিশ্বের অস্থিরতা একটার পর একটা সংকট আন্তর্জাতিক তহবিলের অগ্রাধিকার বদলে দিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকট তৈরি হয়েছে ডোনার দেশগুলোর ক্লান্তির প্রভাবে। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শরণার্থীদের সঙ্গে বাড়ছে অপরাধ। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবে ঝুঁকি বাড়ছে। অর্থাৎ মানবিক সংকট রূপ নিয়েছে নিরাপত্তার সংকটে। এখন আসা যাক বিচার আদালতে। ২০১৯ সালে গাম্বিয়া, অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনের সমর্থনে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছিল। অভিযোগ ছিল, মিয়ানমার গণহত্যা সনদের অধীনে তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তি আইসিজি প্রত্যাখ্যান করে। মামলাটি এখনো চলছে। এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। কিন্তু আদালত এমন কিছু করতে পারে না, যা মাঠে একটি সরকার বা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ করা সমতুল্য। আদালত শরণার্থী শিবিরে খাবার পৌঁছে দিতে পারে না, আর কোনো গোষ্ঠীকে রাতারাতি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে বাধ্য করতে পারে না। অর্থাৎ ন্যায়বিচার আর প্রত্যাবাসন দুটোই এক নয়। আইসিজির ভবিষ্যৎ রায় রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচারের দাবিকে শক্তিশালী করতে পারে, মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক দায় নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু রোহিঙ্গারা নিরাপদে বাড়ি ফিরবে কি না, সেটা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নিরাপত্তার বাস্তবতার ওপর।

 

গত নয় বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধান ও মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের জন্য স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। লক্ষ্যটা বদলানোর প্রয়োজন নেই, কিন্তু কৌশল বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। কারণ ২০১৭ সালের মিয়ানমার আর ২০২৬ সালের মিয়ানমার এক নয়। বাংলাদেশকে এখন শুধু নেপিদোর দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না। রাখাইনে বাস্তবে ক্ষমতায় কারা, সেটা বাংলাদেশকে বুঝতে হবে। এর অর্থ আরাকান আর্মিকে যে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে, সেটা নয়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা প্রয়োজনীয়, যোগাযোগের পথ খোলা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যার সমাধান বের করা। কারণ নির্ভর করবে শুধু মিয়ানমার সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নয়, প্রভাবশালী পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর। এখানে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সমস্যাটিকে শুধু দ্বিপক্ষীয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমস্যা হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আর আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট থেকে তুলে ধরা।

 

কারণ প্রায় এক দশক ধরে একটি দেশের ভেতরে প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শরণার্থী হিসেবে রাখা কোনো টেকসই সমাধান নয়।

 

তাহলে কি প্রত্যাবাসনে কোনো পথ নেই? পথ নিশ্চয় আছে। কিন্তু সেই পথ ২০১৭ সালের মতো সরল নয়। প্রথমত, রাখাইনে সহিংসতা কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বাস্তব সমাধান প্রয়োজন হতে হবে। অবশ্যই স্বেচ্ছায়। আর যে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকুক, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের দায়বদ্ধতা করতে হবে।

 

আলোচনা শুধু রোহিঙ্গা ফিরলে এই প্রশ্নের মধ্যে আটকে থাকলে চলবে না। নয় বছর, অর্থাৎ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে জীবন বাঁচাতে। এখন ধারণা ছিল, কিছুদিন পর স্বাভাবিক হবে। কিন্তু এখন তা এক দশক। এর মধ্যে মিয়ানমারের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে, নতুন শক্তির উত্থান হয়েছে, সামরিক জান্তা দুর্বল হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। বিচার চলছে, কিন্তু বিচারের প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ। আন্তর্জাতিক সহায়তা আছে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম।

 

বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক বা সীমান্তের সমস্যা নয়। এটি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক, কূটনীতি, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রশ্ন।

 

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ২০২৬ সালের মিয়ানমার বাস্তবতায় খুঁজলে আর হবে না। রাখাইন বদলে গেছে, বদলে গেছে ক্ষমতার কাঠামো। দ্বন্দ্বের চরিত্র বদলে গেছে, আর বদলে হয়েছে প্রত্যাবাসনের সমীকরণও।

 

তাই বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নয়। চ্যালেঞ্জ হলো, কোন পরিস্থিতিতে, কার কাছে এবং কী অধিকার নিয়ে রোহিঙ্গারা ফিরবে—এই  রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করা। আর সেই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কক্সবাজারের শিবিরে আটকে থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

 

 শিক্ষার্থীবাংলা বিভাগগোপালগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

showarakhatun@gmail.com

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted