অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি আজ ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত দলটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় রাষ্ট্রক্ষমতা ও বিরোধী রাজনীতির নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসে নেতৃত্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দেখা যায়। প্রথমে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দলের প্রতিষ্ঠা, এরপর খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্ব এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলেন জিয়াউর রহমান। তবে ১৯৮১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর দলটি নতুন নেতৃত্বের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।
পরবর্তী সময়ে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। কয়েক দশক ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে দলটির গণভিত্তি ও সাংগঠনিক শক্তি বিস্তারে ভূমিকা রাখেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি নতুন এক বাস্তবতায় পথচলা শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০২৬ সালে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং পরে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি।
এখন তারেক রহমানের সামনে রয়েছে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে সরকার পরিচালনা, অন্যদিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত রাখা।
ক্ষমতায় থাকার কারণে বিএনপির সামনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসেবার মতো বিষয়গুলোতে সরকারের কার্যকারিতার ওপর জনগণের আস্থা অনেকাংশে নির্ভর করবে।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই শুধু বিএনপির অতীত স্মরণের উপলক্ষ নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠা এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—ক্ষমতায় থেকেও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সরকার পরিচালনা করা।
















