নিজস্ব প্রতিবেদক
পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় সেতুর পূর্ব পাশের রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে এবং এতে ব্যয় হতে পারে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, সোমবার দুপুরে দুর্ঘটনার সময় বাসটি সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম—দুই পাশের রেলিংয়েই ধাক্কা দেয়। তবে পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। পূর্ব পাশের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, সেতুর সড়কেও কিছু দাগ পড়েছে, তবে তা গুরুতর নয়। দুর্ঘটনায় সেতুর মূল অবকাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
সোমবার বেলা সোয়া একটার দিকে নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তের ঢাল দিয়ে নামার সময় বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি দুই পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং পরে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় আটজন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট পদ্মা সেতুতে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মাওয়া প্রান্তের ঢালে নামার সময় বাসটি অন্য একটি বাসকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। অতিরিক্ত গতির কারণে একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি দুই পাশের রেলিংয়ে আঘাত করে উল্টে যায়।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা থাকলেও অনেক চালক তা মানছেন না। দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা কিছু যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
















