পাঠক নিউজ ডেস্ক
জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা না–থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভ্যন্তরে জোটের রাজনৈতিক লাভ–ক্ষতি মূল্যায়নের পাশাপাশি কওমি ঘরানার ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে নতুন সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাস্তবতায় কার্যকর থাকছে না। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী নির্ধারণে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, এনসিপির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিজস্ব নেতৃত্বে একটি বড় জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। সে কারণে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামপন্থী দলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমন্বয়ের আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে তাদের লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছে এনসিপি। ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি এবং শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় ও জোটগত উভয় পর্যায়েই আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, এনসিপির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও নতুন কোনো উদ্যোগে তারা যুক্ত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের ভেতরে কোনো মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। এনসিপির সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
























