ভারতে আবারও করোনা ভাইরাসের হানা, সতর্কতা জারি

ভারতে আবারও হানা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আরও আটজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নজরদারি, পরীক্ষা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ, যার অংশ হিসেবে সতর্কতাও জারি করেছে রাজ্য সরকার।

রোববার (১২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপা জেলায় ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হন। পরে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আরেক ঘটনায় কাদাপার ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতা নিয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে হাসপাতালের করোনা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এদিকে কাদাপা মেডিকেল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চীনের বাঁধ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারত-বাংলাদেশের জন্য ‘টাইম বোমা’
নতুন সংক্রমণের পর রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ওই জেলায় বিশেষ টিম মোতায়েন করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি নমুনার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

কাদাপা জেলা পরিষদের এক বৈঠকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে জেলায় আটজন সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছে। ভাইরাসের ধরন শনাক্ত এবং সংক্রমণের ধরণ বোঝার জন্য নমুনা পুনের একটি পরীক্ষাগারে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এমন অবস্থায় সংক্রমণ যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কাদাপায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের জেলা-দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাভিথা। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কঠোরভাবে করোনা-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া, হাসপাতালসহ জনসমাগমপূর্ণ সব স্থানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী সাভিথা। তিনি আরও বলেন, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হবে।

এদিকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত করোনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের করোনা শনাক্ত হবে, তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হবে। আর যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে, তাদের বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

কাদাপায় এমন অবস্থার পর অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে করোনা প্রস্তুতি সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। সব জেলার প্রশাসনকে নজরদারি, করোনা পরীক্ষা, তথ্য প্রতিবেদন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত শয্যা, আইসোলেশন সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সহায়তা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং করোনার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted