পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদে শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির। ভারতজুড়ে চলমান পুলিশি সহিংসতার শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশব্যাপী একযোগে বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় সংগঠনটি আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানায়।
শিক্ষার্থীদের দাবি সামনে আনার নির্দেশ
এক্সে প্রকাশিত বার্তায় আয়োজকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, প্রতিটি সমাবেশের সম্মুখভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো স্পষ্টভাবে পড়ে শোনাতে হবে। পাশাপাশি কর্মসূচির অনুমতি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিষয় সহজ করতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সিজেপির নতুন কর্মসূচি
পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদে শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে ইতোমধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা জরুরি বৈঠক করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সিজেপির দেশব্যাপী কর্মসূচি ভারতের চলমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
কীভাবে গঠিত হয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)?
ভারতের প্রধান বিচারপতি দেশের তরুণ প্রজন্মকে ‘পরজীবী’ ও ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) বলে অভিহিত করে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর এর প্রতিবাদ থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-এর জন্ম হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক (স্যাটায়ার) উদ্যোগ হিসেবে দলটি গঠন করেন। পরে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা
প্রকাশের পর থেকেই ভারতীয় তরুণদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
রাজপথে বিস্তৃত হচ্ছে আন্দোলন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও দেশজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তবে ডিজিটাল সমর্থন ধীরে ধীরে বাস্তব আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করেছে।
দিল্লি থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, পাটনা, চেন্নাই ও গুয়াহাটিসহ ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।























