সাকিবুল হাছান
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সারাদেশে একযোগে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেক কাটা, আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সৃজনশীল নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
তরুণ লেখকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও অনুষ্ঠানস্থল। বর্ণিল সাজসজ্জায় সজ্জিত হয় আয়োজিত স্থানগুলো। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও লেখনীচর্চার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার টিচার্স লাউঞ্জে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় পর্ষদ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণের মধ্যে ছিল ‘অনুভূতির আয়নায় লেখক ফোরাম’ শীর্ষক ভিডিওচিত্র প্রকাশ এবং সংগঠনের সেরা ৮ সদস্যকে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন শাখায় আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে সংগঠনের সদস্যরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন, যা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন প্রাণসঞ্চার করে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সজীব প্রধান বলেন,
“বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমার কাছে শুধু একটি মাইলফলক নয়; এটি অসংখ্য স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গৌরবময় অভিযাত্রার প্রতিচ্ছবি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত লেখনীর শক্তিতে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ইতিবাচক চিন্তার যে ধারা আমরা গড়ে তুলেছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আগামী দিনেও সত্য, সৃজনশীলতা ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে তরুণ লেখকদের জন্য আরও সমৃদ্ধ একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই পথচলায় সংগঠনের প্রতিটি সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীর আন্তরিক অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলা ভাষাভাষী সকল লেখক, কবি, চিন্তাবিদ, দার্শনিক ও সাহিত্যপ্রেমীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন,
“বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম আমার কাছে কেবল একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি এমন এক বোধের নাম, যেখানে প্রশ্ন করতে শেখানো হয়, যুক্তি নির্মাণ করতে শেখানো হয় এবং সত্যকে ভয় না পেয়ে সত্য বলার সাহস গড়ে ওঠে।
৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমার প্রত্যাশা, ফোরামের প্রতিটি সদস্য কেবল একজন দক্ষ লেখকই নয়, একজন আলোকিত চিন্তক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন। আমাদের প্রতিটি লেখা হোক সময়ের কাছে সত্যের সাক্ষ্য এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উত্তরাধিকার। কলমের শক্তিতেই নির্মিত হোক আরও সুন্দর, যুক্তিনিষ্ঠ ও মানবিক বাংলাদেশ।”
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম একদিন দেশের অন্যতম বৃহৎ বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনে পরিণত হবে। তাদের প্রত্যাশা, এই সংগঠন থেকেই ভবিষ্যতে দেশের অসংখ্য গুণী লেখক, কলামিস্ট, গবেষক, প্রকাশক, কবি ও সাহিত্যিক তৈরি হবে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
























