অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল, জমায়েত বা কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে পারলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) দায় নিতে হবে বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অপারেশনাল ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে।
সোমবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা বা ক্রাইম কনফারেন্সে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় আগস্ট মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বলা হয়, কোনো ঘটনা ঘটার পর অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়। সম্ভাব্য মিছিল, জমায়েত বা অপতৎপরতা ঠেকাতে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকার প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রাতের চেকপোস্টে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুলশানে সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনাটিও সভায় গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান জানান, ওই ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা হয়নি। বরং আগাম তথ্যের ঘাটতি ও ভবিষ্যতে কীভাবে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, গুলশানের ওই মিছিলের বিষয়ে পুলিশ মাত্র আট মিনিট আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পেয়েছিল। এরপর গুলশান থানা পুলিশ দ্রুত তৎপর হলেও অল্প সময়ে বড় জমায়েত ঠেকাতে পুলিশের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।
ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, কোনো থানা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে শুধু গোয়েন্দা সংস্থার ওপর দায় চাপানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও জোনের ডিসিকেই মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক দায়িত্ব নিতে হবে।
এ ছাড়া গোয়েন্দা সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির পাশাপাশি ডিজিএফআই, এনএসআই, সিটিএসবি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান করতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য মিছিল, জমায়েত বা নাশকতার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত মাঠপর্যায়ের ইউনিটকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকানোর নামে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অতীতে সম্পৃক্ততা বা সমর্থনের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। মিছিলে সরাসরি অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট তথ্য, ছবি, ভিডিও ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় ‘প্রিভেন্টিভ পুলিশিং’ বা অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, সম্ভাব্য অপরাধীদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং রাজধানীর আবাসিক ও বাণিজ্যিক হোটেলগুলোতে অবস্থানকারীদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ও পুরোনো ভাড়াটিয়াদের তথ্য হালনাগাদ, সন্দেহজনক সাবলেট ও অস্থায়ী আবাসের বিষয়ে নজরদারি এবং ঢাকার বাইরে থেকে নতুন করে আসা ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য ও নাগরিকদের সঙ্গে থানার কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
থানায় ওসিদের উপস্থিতি নিয়েও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিউটির সময়ে ওসিদের থানায় অবস্থান করে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্ধারিত পোশাক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে যেতে হলে জিডিতে বিষয়টি উল্লেখ করে দায়িত্ব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সভায় ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, বিশৃঙ্খলা বা অপেশাদার আচরণ দেখা গেলে জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনারসহ ডিএমপির ৫০ থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।
















