গুম প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক 

 

গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে সংঘটিত প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে উত্থাপিত বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম বা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়ানোর সাহস পাবে না।

 

গুম ও অপহরণকে শুধু একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ থমকে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অপেক্ষার কোনো সমাপ্তি ঘটে না।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু গুম হওয়া ব্যক্তি ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অনেক মানুষের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

 

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ঐক্য প্রয়োজন।

 

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম মানবাধিকারের অন্যতম গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বৈরতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

 

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার দমনে গুম ও অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুম হওয়া ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

 

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে দেশের সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন।

 

গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দেশ-বিদেশে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted