এখনই কাটছে না গ্যাস সংকট, দুর্ভোগ আরও কয়েক দিন

23 বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

দেশে গ্যাসের চলমান সংকট এখনই কাটছে না। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আরও কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ–সংকট আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল শনিবারও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

 

রাজধানীর কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও চুলা নিভু নিভু জ্বলছে, আবার কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই। এতে রান্নাবান্নায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। অনেকেই বিদ্যুৎচালিত চুলা ব্যবহার করছেন, আর নিম্ন আয়ের মানুষ মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তরের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আগুন লাগার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

 

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি আগুনে নষ্ট হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি চালু করা গেলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল গত বৃহস্পতিবার থেকে মেরামত কাজ করছে।

 

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কারিগরি দল কাজ করছে। তবে টার্মিনাল চালুর মতো অবস্থায় এখনো পৌঁছানো যায়নি। ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

 

বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অথচ স্বাভাবিক সময়েও সরবরাহ থাকে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে।

 

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সিএনজি খাতেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট কমে গেছে। পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

 

এদিকে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল দ্রুত সচল করতে দেশি-বিদেশি কারিগরি দল নিরলসভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় সব ধরনের গ্রাহকই স্বল্পচাপের সমস্যায় ভুগবেন।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস খাত ঝুঁকির মধ্যে ছিল। একটি টার্মিনাল অচল হওয়ার পর সেই দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, স্থলভাগে বিকল্প এলএনজি টার্মিনাল থাকলে বর্তমান সংকট অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতো।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted