খেলা ডেস্ক
কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে থেমে গেল রিয়াল মাদ্রিদের দারুণ শুরুর ছন্দ। শুক্রবার রাতে রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে হোসে মরিনিওর দল। রিয়ালের দ্বিতীয় মেয়াদে মরিনিওর টানা তিন জয়ের পর এটি প্রথম হার।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। যোগ করা সময়ের ৯৫তম মিনিটে স্পটকিক নেন এমবাপ্পে। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। ফিরতি বলও দ্রুত ক্লিয়ার করেন বেতিসের ডিফেন্ডার মার্ক বার্ত্রা।
এরপরই প্রশ্ন ওঠে—বার্ত্রা কি পেনাল্টি নেওয়ার আগেই বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন? রিয়াল সমর্থকদের একাংশের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টিটি আবার নেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল এমবাপ্পের।
তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেননি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বার্ত্রা শট নেওয়ার আগে বক্সে প্রবেশ করলেও এমবাপ্পে বল মারার মুহূর্তে তাঁর দুই পায়ের কোনোটিই মাটিতে ছিল না। এই কারণেই ঘটনাটিকে পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার মতো লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
এমবাপ্পের এই পেনাল্টি মিস লা লিগায় ম্যাচের শেষ সময়ে সমতায় থাকা বা এক গোল পিছিয়ে থাকা অবস্থায় রিয়ালের পেনাল্টি মিসের পুরোনো তালিকাতেও নতুন নাম যোগ করেছে।
এর আগে রিয়ালের হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন আলফ্রেড ডি স্টেফানো, ফেরেঙ্ক পুসকাস, পল ব্রেইটনার, রাউল গঞ্জালেস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০ বছর পর সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন এমবাপ্পে।
ম্যাচে রিয়াল একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে ছয়বার পোস্টে বল মেরেছে রিয়ালের খেলোয়াড়েরা।
এমবাপ্পের দুটি প্রচেষ্টা বেতিসের ডিফেন্ডার নাতান ও বার্ত্রা প্রতিহত করেন। পরে তাঁর আরেকটি শট ক্রসবারে লাগে। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে কার্লোস এস্পি বাইসাইকেল কিকে দারুণ গোল করলেও ভিএআরে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
বেতিসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ট্রয় পারট। ম্যাচ শেষ হওয়ার নয় মিনিট আগে থিবো কোর্তোয়া নেলসন দেওসার হেড ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বল পেয়ে গোল করেন পারট।
হারের পর অবশ্য রেফারিং নিয়ে অভিযোগ করেননি মরিনিও। তিনি বলেন, রিয়াল ভালো খেলেছে এবং অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল। তাঁর মতে, দল জয় পাওয়ার মতো পারফরম্যান্স করলেও ফুটবলে শুধু জয়ের যোগ্য হওয়া যথেষ্ট নয়—তার জন্য সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হয়।
ম্যাচে হলুদ কার্ডও দেখেছেন মরিনিও। রিয়ালে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর এটি তাঁর প্রথম হলুদ কার্ড।
চার ম্যাচ শেষে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা, যারা একটি ম্যাচ কম খেলেছে। রোববার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জিতলে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়ে রিয়ালের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে যাবে বার্সেলোনা।

















