সাকিবুল হাছান
লেগুনা ছুটছে সড়ক দিয়ে। আর তার পেছনে ঝুলে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া তুলছে ১১ বছর বয়সী রাহাত। আজিমপুরের সেকশন এলাকা থেকে গুলিস্তানগামী লেগুনায় কন্ডাক্টরের কাজ করাই এখন তার প্রতিদিনের জীবন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৯–১০ ঘণ্টা কাজ করে রাহাত। দিন শেষে আয় হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।
চলন্ত লেগুনার বাইরে ঝুলে ভাড়া তোলার কাজটি রাহাতের জন্য প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ। কখনো গাড়ির পেছনে ঝুলতে হয়, আবার কখনো চলন্ত অবস্থায় যাত্রীদের কাছে গিয়ে ভাড়া তুলতে হয়। তার বয়সের কথা ভাবলে এই কাজের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অথচ একসময় স্কুলে পড়ত রাহাত। অন্য শিশুদের মতো তারও ছিল স্কুলে যাওয়ার, পড়াশোনা করার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার সুযোগ। কিন্তু অসুস্থ বাবার কারণে পরিবারের আর্থিক সংকট তৈরি হলে সেই স্বাভাবিক জীবন থেমে যায়। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে হয় তাকে।
তবু শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নটি হারিয়ে যায়নি রাহাতের। নিজের ইচ্ছার কথা বলতে গিয়ে সে বলে, “আমিও পড়াশোনা করতে চাই, শিক্ষিত হতে চাই। কিন্তু আমার বাবা অসুস্থ, পরিবারে অভাব। যার কারণে আমাকে এই পথ বেছে নিতে হচ্ছে।”
রাহাতের এই কথার মধ্যে শুধু একটি শিশুর অসহায়ত্ব নয়, তার অপূর্ণ স্বপ্নও ফুটে ওঠে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সেই বয়সেই জীবিকার প্রয়োজনে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে যুক্ত হতে হয়েছে।
লেগুনার পেছনে ঝুলে থাকা রাহাত তাই শুধু একজন শিশু শ্রমিক নয়; সে এমন এক শৈশবের প্রতিচ্ছবি, যেখানে স্বপ্ন আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ আটকে যায় পরিবারের আর্থিক সংকটে।














