নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকায় এসেছে ভারতের ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। দুই দিনের সফরে আসা দলটি আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
সোমবার ঢাকায় পৌঁছানো প্রতিনিধি দলটি পরে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে। এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠক শেষে দুই পক্ষের যৌথ প্রেস ব্রিফিং হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতীয় ব্যবসায়ী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। প্রতিনিধি দলে ভারতের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা রয়েছেন।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর হচ্ছে। সমুদ্র ও স্থলবন্দর ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে কিছু বাধা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় ব্যবসায়ী পর্যায়ের এ সফরে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গেও বৈঠক করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা একসময় অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই আলোচনা থেমে যায়।
বর্তমান ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি সরকারি নয়। ফলে তাদের সফরে সিইপিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির উদ্যোগ জোরদার করায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও সিইপিএ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হতে পারে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ, সিইপিএ ও ইপিএ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এর অংশ হিসেবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ নিয়েও দরকষাকষি শেষ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ভারতের ব্যবসায়ী মহলও বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আগ্রহী।
চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি সফরের আগে বাংলাদেশের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে নানা সংবেদনশীলতা থাকলেও ব্যবসায়ী পর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















