দিল্লি সফরের আগে ভারতের কাছে ঢাকার দুই প্রত্যাশা

170 বার পঠিত

পাঠক নিউজ প্রতিবেদক

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্কের কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে অগ্রগতি চায় বাংলাদেশ।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ঢাকার এ অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। ভারতকে দ্রুত দুটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ চলছে। তবে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য সফরের অনুকূল পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করছে ঢাকা।

 

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

 

সফরের তারিখ নিয়ে আলোচনা

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসেই তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট দিন এখনো ঠিক হয়নি। সফরের আগে ভারতের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার ওপরও সময়সূচি নির্ভর করতে পারে।

 

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি দিল্লি সফর করেন। এসব যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দিল্লির অবস্থান

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের সুযোগও রাখা হয়েছে।

 

ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা দ্রুত অগ্রগতি চাইলেও দিল্লি বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

 

হাদি হত্যা মামলাও আলোচনায়

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত আনার বিষয়েও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত তিন আসামিকে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হয়েছে।

 

তবে ভারতে তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে প্রত্যর্পণে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

সম্পর্কের বড় এজেন্ডা

শুধু প্রত্যর্পণ নয়, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের আলোচনায় আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ভিসা, যোগাযোগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের স্বার্থ জড়িত।

 

বিশেষ করে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি সামনে রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহী হলেও নিজেদের স্বার্থ ও অবস্থান ধরে রেখে আলোচনায় এগোতে চাইছে।

 

এ অবস্থায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted